![]()


হবিগঞ্জ সংবাদদাতা ::
অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে হবিগঞ্জের খোয়াই নদী পড়েছে ভয়াবহ সংকটে। নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বদলে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে চর, ভেঙে পড়েছে তীর, এবং হুমকির মুখে পড়েছে দুই পাশের বন্যা প্রতিরোধ বাঁধ। ফলে প্রতিনিয়ত জনপদে দেখা দিচ্ছে নদীভাঙন ও মানবিক বিপর্যয়।
শুক্রবার (২০ জুন) পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’–এর একটি প্রতিনিধি দল খোয়াই নদীর পূর্ব ভাদৈ এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শনে গেলে এসব তথ্য উঠে আসে। পরিদর্শনকালে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
‘ধরা’র কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, “অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ খোয়াই নদী। শুধু বাঁধ মেরামত নয়, নদীকে তার মূল গতিপথে ফিরিয়ে না দিলে ভাঙন রোধ করা যাবে না। তাই বিজ্ঞানভিত্তিক এবং ইকোলজিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে স্থায়ী সমাধান জরুরি।” তিনি অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, “বছরের পর বছর ধরে শুধু বাঁধ মেরামতের নামে টাকা খরচ করে প্রকৃত সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। একসময় নদীর তীর থেকে মাটি কেটে তৈরি করা খালই এখন নদীর গতিপথ হয়ে গেছে।”
খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল বলেন, “যন্ত্রচালিতভাবে বালু উত্তোলন করে নদীর তলদেশ ও তীরকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলা হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে হঠাৎ নদীভাঙন দেখা দেয় এবং লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। জনজীবনে তৈরি হয় আতঙ্ক।”
ভাদৈ ও তেঘরিয়া এলাকা পরিদর্শন করে প্রতিনিধি দল দেখতে পান, নদীর মূল গর্ভে চর জেগে উঠেছে এবং তার বদলে সৃষ্ট খালেই বইছে নদীর মূল প্রবাহ। এ অবস্থায় ইকোলজিক্যাল মরফোলজি ও পূর্ব ভূমি রেকর্ডের আলোকে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেন প্রতিনিধিরা।
পরিদর্শনকারী দলে আরও উপস্থিত ছিলেন ধরা হবিগঞ্জের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল, আহ্বায়ক কবি তাহমিনা বেগম গিনি, পরিবেশকর্মী সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
প্রতিনিধি দল মনে করে, খোয়াই নদী রক্ষা শুধু একটি নদীর অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই নয়, বরং এটি পুরো অঞ্চলের পরিবেশ ও মানবিক নিরাপত্তার প্রশ্ন। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।